
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জীবনের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। অনেকেই মনে করেন, ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অন্তত এক বছর প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সঠিক পরিকল্পনা, মনোযোগ ও ধারাবাহিক পরিশ্রমের মাধ্যমে মাত্র ৩ মাসেই কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।
এই ব্লগে আমরা ধাপে ধাপে দেখব — কীভাবে ৩ মাসে প্রস্তুতি নিলে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
ভর্তি প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো একটি বাস্তবসম্মত স্টাডি প্ল্যান তৈরি করা।
প্রথম সপ্তাহেই নিজের জন্য একটি “৩ মাসের রোডম্যাপ” তৈরি করতে হবে।
সিলেবাস সংগ্রহ করুন: বিশ্ববিদ্যালয় অনুযায়ী সিলেবাস আলাদা হয়। যেমন — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, বা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় (BUET, RUET) এর আলাদা সিলেবাস আছে।
বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা চিহ্নিত করুন: কোন বিষয় বা অধ্যায় আপনার দুর্বল, তা নোট করুন।
সময় ভাগ করুন: প্রতিদিন ৮–১০ ঘণ্টা সময় পরিকল্পিতভাবে পড়াশোনার জন্য নির্ধারণ করুন।
ডেইলি ও উইকলি টার্গেট সেট করুন: যেমন – প্রতিদিন ৩টি অধ্যায়, প্রতি সপ্তাহে ১টি মডেল টেস্ট।
প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টা সময় দিন।
ব্যাকরণ অংশ নিয়মিত প্র্যাকটিস করুন।
পূর্ববর্তী ভর্তি প্রশ্ন সমাধান করুন।
ইংরেজি comprehension ও vocabulary-তে গুরুত্ব দিন।
প্রতিদিন ২ ঘণ্টা সময় রাখুন।
অঙ্কের মূল ফর্মুলাগুলো মুখস্থ না করে বোঝার চেষ্টা করুন।
BUET, DU, CUET, RUET, এবং অন্যান্য ভর্তি পরীক্ষার আগের বছরের প্রশ্ন অনুশীলন করুন।
বোর্ড বই ভালোভাবে পড়ে নিন, কারণ প্রশ্নের মূল উৎস বোর্ড বইই।
প্রতিটি অধ্যায়ের মূল সূত্র, সংজ্ঞা ও চিত্র অনুশীলন করুন।
কনসেপ্ট বুঝে নিন — মুখস্থ নয়।
প্রতিদিন সংবাদপত্র পড়ুন।
বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক বিষয়, সংবিধান ও সমসাময়িক তথ্য পড়ুন।
পূর্ববর্তী প্রশ্নপত্র থেকে সাধারণ জ্ঞানের ধরন বোঝার চেষ্টা করুন।
৩ মাসে সফলভাবে প্রস্তুতি নিতে হলে সময় ব্যবস্থাপনাই মূল চাবিকাঠি।
| সময় | কার্যক্রম |
|---|---|
| সকাল ৬টা–৭টা | নোট রিভিশন / সংক্ষিপ্ত পুনরাবৃত্তি |
| সকাল ৭টা–৯টা | গণিত / পদার্থবিজ্ঞান |
| সকাল ৯টা–১০টা | বিশ্রাম / প্রাতঃরাশ |
| সকাল ১০টা–১২টা | রসায়ন / জীববিজ্ঞান |
| দুপুর ১২টা–১টা | লাঞ্চ / বিশ্রাম |
| দুপুর ১টা–৩টা | ইংরেজি / বাংলা |
| বিকেল ৪টা–৬টা | মডেল টেস্ট বা পূর্ববর্তী প্রশ্ন |
| সন্ধ্যা ৭টা–৯টা | ভুলগুলো রিভিউ এবং দুর্বল অধ্যায় |
| রাত ৯টা–১০টা | হালকা রিভিশন + পরের দিনের পরিকল্পনা |
এই রুটিনটি নিজের প্রয়োজন ও দুর্বলতা অনুযায়ী পরিবর্তন করা যেতে পারে।
সময়ের মধ্যে প্রশ্ন সমাধানের অভ্যাস হয়।
নিজের দুর্বল অংশগুলো চিহ্নিত হয়।
পরীক্ষার মানসিক চাপ মোকাবিলায় সহায়তা করে।
প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২টি পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দিন।
এরপর ফলাফল বিশ্লেষণ করে ভুলগুলো লিখে রাখুন ও সংশোধন করুন।
শেষ ৩০ দিন হলো রিভিশন মাস।
এই সময় নতুন কিছু না পড়ে, আগের পড়া বিষয়গুলো পুনরায় ঝালাই করুন।
প্রতিটি বিষয়ের সারাংশ ও ফর্মুলা নোট রাখুন।
“Quick Revision Booklet” তৈরি করুন।
প্রতিদিন অন্তত ১টি মডেল টেস্ট দিন।
ভুলের খাতা বা “Error Log Book” ব্যবহার করুন।
শুধু পড়াশোনা নয়, মানসিক দৃঢ়তাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্যের জন্য মনোযোগ ধরে রাখা অপরিহার্য।
মোবাইল, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার সীমিত করুন।
প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমান।
হালকা ব্যায়াম বা হাঁটার অভ্যাস রাখুন।
নিজেকে প্রতিদিন মোটিভেট করুন—“আমি পারব!”
| বিষয় | রেফারেন্স বই/উৎস |
|---|---|
| বাংলা | বোর্ড বই, এমসিকিউ গাইড |
| ইংরেজি | Wren & Martin Grammar, পূর্ববর্তী প্রশ্ন |
| গণিত | HSC বোর্ড বই, Admission Test Model Book |
| পদার্থবিজ্ঞান | Board Text + Prof. Abdullah’s Guide |
| রসায়ন | Board Text + MCQ Practice Book |
| জীববিজ্ঞান | Board Text + Conceptual Biology |
| সাধারণ জ্ঞান | Current Affairs ম্যাগাজিন, পত্রিকা |
ভর্তি পরীক্ষার আগে ২–৩ দিন নতুন কিছু পড়বেন না।
স্বাস্থ্য ভালো রাখুন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
পরীক্ষার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম দিন।
পরীক্ষার হলে আত্মবিশ্বাস রাখুন।
“টেনশন” কমানোর জন্য গভীর শ্বাস নিন।
| মাস | মূল লক্ষ্য |
|---|---|
| ১ম মাস | সিলেবাস সম্পূর্ণ পড়া ও দুর্বলতা শনাক্ত |
| ২য় মাস | মডেল টেস্ট ও প্রশ্ন অনুশীলন |
| ৩য় মাস | পূর্ণাঙ্গ রিভিশন ও আত্মবিশ্বাস তৈরি |
How to Choose the Right Subject for University Admission
৩ মাস সময় খুব বেশি নয়, তবে যথেষ্ট — যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়।
একটি পরিকল্পিত স্টাডি রুটিন, মডেল টেস্ট প্র্যাকটিস, এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমই আপনাকে আপনার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে সাহায্য করবে।
আপনার প্রস্তুতি হোক আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এবং ফলাফল হোক গর্বের!